অপেক্ষার ২ ডিসেম্বর এমপি জগলুকে সভাপতি ও দোলনকে সাধারণ সম্পাদক পদে চায় নেতা কর্মীরা

অপেক্ষার ২ ডিসেম্বর এমপি জগলুকে সভাপতি ও দোলনকে সাধারণ সম্পাদক পদে চায় নেতা কর্মীরা
সামিউল মনির, শ্যামনগর: দীর্ঘদিনের দুরত্ব ঘুচিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা এখন একই প্লাটফ্রমে। সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং শুভান্যুধায়ীদের মাঝেও ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বর্তমান নেতৃত্বের উপরই আস্থা রাখতে চাইছে নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা।

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে রীতিমত সাঁজ সাঁজ রব পড়ে গেছে গোটা উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপজেলা এবং ইউনিয়ন কার্যালয়সমুহ মুখরিত থাকছে কর্মী আর সমর্থকদের পদচারনায়।

চায়ের দোকান থেকে বিপনী বিতান সর্বত্র এখন আলোচনায় আওয়ামী লীগের প্রতীক্ষিত সম্মেলন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মী সমর্থকদের মাঝে উপস্থিতি তাদেরকে দারুনভাবে উজ্জীবিত করেছে।

যদিও পুর্বে দুরত্ব থাকাকালীন সময়ে দুই নেতার কর্মী সমর্থকদের মাঝে কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আবার সকল কর্মসুচিতে তারা যৌথভাবে অংশ গ্রহণের এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। ফলে উভয়ের কর্মী সমর্থকরা দু’নেতার সম্পর্ককে বিপরীতমুখী ছিল বলে মানতে কিছুটা হলেও নারাজ। তাদের দাবি বর্তমান সভপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বেও ছোয়াঁয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির পালে হাওয়া লেগেছে। সে ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও সভপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটিতে বর্তমান দুই নেতাকে পুনরায় দেখতে চাইছেন তারা।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অভিমত স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনের নেতৃত্বে বর্তমান সভাপতি জগলুল হায়দার এবং সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক সবচেয়ে যোগ্য হবেন। উভয়ের যৌথ নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ‘জাগরণ’ সৃষ্টি হয়েছে-উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে শীর্ষ এ দুই নেতার যুগলবন্ধনে আওয়ামীলীগ তার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে জগলুল হায়দার পুনরায় নির্বাচিত হলেও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এমপি একে ফজলুল হকের ছেলে আতাউল হক দোলন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পারিবারিকভাবে ঐতিহ্যবাহী দুই পরিবারের এ দু’জন প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে আসায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। ছাত্রাবস্থা থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত এ দুই নেতা রাজনীতিক হিসেবে ইতোপূর্বে পরিপক্কতার স্বাক্ষর রাখায় সকলের মধ্যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশারও সৃষ্টি হয়।

কিন্ত স্থানীয় রাজনীতির বেঁড়াজালে জড়িয়ে দু’নেতার মধ্যে দুরত্ব তৈরী করে একটি পক্ষ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করায় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক তৎপরতায় ভাটা পড়ে। ২০১৪ সালের কাউন্সিলে দু’নেতা ভিন্ন ভিন্ন প্যানেল থেকে নির্দিষ্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দু’টি পক্ষ তৈরী হয়ে যায়। আর উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ দু’নেতার দুরত্বের কারনে প্রায় চার বছর লেগে যায় উপজেলা আওয়ামীলগের পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে।

তবে আশার কথা সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ এসএম জগলুল হায়দার এবং সাধারন সম্পাদক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হওয়ার পর থেকে যৌথভাবে তারা প্রতিটি ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন।

সম্মেলনকে সফল করতে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িতদের কাছে পৌছে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি সম্মেলন সফল করার পরামর্শ নিচ্ছেন।

এদিকে আলোচিত এ দ্ইু নেতার বাইরে সভাপতি ও সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অন্য কোন নাম আলোচনায় না থাকায় আভ্যন্তরীণ কোন উত্তেজনা নেই। যদিও সাধারণ সম্পাদক পদে গাজী আনিছুজ্জামান আনিচের নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মধ্যে দেখা মিললেও সভাপতি পদে জগলুল হায়দার এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় থাকা গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ দীর্ঘদিন ধরে সংক্রিয় রাজনীতির বাইরে। এমতাবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ মূলত মোটামুটিভাবে নির্ভর রয়েছে পুরানো নেতৃত্ব বহাল থাকার ব্যাপারে।

শীর্ষ দুই নেতার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করে উজ্জীবিত কর্মী সমর্থকরা দাবি তুলেছে সংগঠনের বৃহৎ স্বার্থে উভয়কে স্ব স্ব পদে রাখার কোন বিকল্প নেই। তাদের হাত ধরেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতায় আবারও গতি ফিরেছে। তারা দু’জনই হতে পারেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের যোগ্য কান্ডারী।

সভাপতি সম্পাদকের এমন ঐক্যবদ্ধ কর্মকান্ড স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সম্মৃদ্ধ করবে উল্লেখ করে যুবলীগের সাবেক আহবায়ক কুমোদ রঞ্জন গায়েন বলেন, যোগ্যতার নিরিখে জগলুল হায়দার ও আতাউল হক এর বিকল্প কোন প্রার্থী পদ দুটিতে হতে পারেনা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে তাদেরকে পুনরায় পদ দুটিতে দেখতে চাওয়ার বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন এ নেতা।

You might also like More from author