একুশে আগষ্টের বিভীষিকার ধ্বংস্তুপ থেকে উঠে আশা এক মহীয়সী জাতীর কাণ্ডারী”

গন টিভি
ডঃ মিস্ত্রী
সিনিয়র গবেষক
রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট
জেনেটিক এবং মোলিকুলার বায়োলজি
এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, আটলান্টা, আমেরিকা

জন্ম আমার ধন্য মাগো, জন্মেছি তোমার কোলে।আমি সৌভাগ্যবান এজন্যই যে, আমি এমন এক ক্রান্তিকালে জন্মগ্রহণ করেছি, তিন বছর বয়সে আমি দেখেছি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে “বাংলাদেশ” নামক এক নবজাতক শিশুর জন্ম হতে । আমি মনে করি ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে একসাথে দুইটি জমজ শিশুর জন্ম হয়েছিল সেদিন পৃথিবীতে। এক: “বাংলাদেশ” নামক এক নতুন রাষ্ট্র; দুইঃ “বাঙালি” নামক এক নতুন জাতি। দেখেছি আমি জন্মের তিন বছরের মাথায় পিতৃহারা বাংলাদেশের করুন পরিনতি। আরও দেখেছি, একুশ বছরের করুন ইতিহাস পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ও বাঙালি পুনরায় খুঁজে পেয়েছিল তার আপন ঠিকানা।

সব বাধা অতিক্রম করে আজ বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে এক উদীয়মান শক্তিশালী বাংলাদেশ। বিশ্ববাসীকে জানান দিতে শুরু করছে সেদিন বেশী দুরে নয় জ্ঞান, বিজ্ঞান, টেকনোলজি, শিল্প, অর্থনৈতিক শক্তি, এবং সভ‍্যতাসহ অন্যান্য সকল সুচকে বাঙালি সমানে সমান। বাংলাদেশের স্রষ্টা ও সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শেষ রক্ত বিন্দু থেকে উঠে আসা এক মহীয়সী নারী, জীবন্ত কিংবদন্তি মমতাময়ী, বিশ্বমানবতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তারই উত্তরসুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। যিনি মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করে পিতার স্বপ্ন পুরনের লক্ষে অসীম সাহসীকতার সাথে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। আজ অর্থনৈতিক উন্নয়নে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে এক ম‍্যাজিক রোল মডেল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি করিয়েছেন। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম এবং উন্নয়ন কাজে শেখ হাসিনা একটি বিস্ময়কর নাম ।
তার দুরদর্শি প্রজ্ঞাজনিত নেতৃত্বে আজকের এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নতুন এক ফরমেটে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। লক্ষ ২০৪১ সালে (Target 2041) উন্নত বাংলাদেশ। সেই লক্ষে তিনি যুগান্তকারী বহু কর্মসুচি হাতে নিয়েছেন এবং বাস্তবায়ন করে চলেছেন। যেমন, মোট জন সংখ‍্যার অর্ধেক নারী সমাজকে নারী জনশক্তিতে (Women empowerment) রূপান্তরিত এবং গ্রামীণ জনপথকে শহরের আবহে রূপান্তরিত, গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বিদ‍্যুৎ ও ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিতকরন এবং প্রতিটি গ্রামকে কৃষিভিক্তিক খামারে রূপান্তরিত, প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক‍্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, গ্রামের সকল রাস্তা হেভি ট্রাক চলাচল উপযোগী। তাছাড়া, আধুনিক শিল্পনগরী, সুমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, বিদ‍্যুৎকেন্দ্র, পারমানবিক বিদ‍্যুৎকেন্দ্র, কয়লাভিক্তিক বিদ‍্যুৎকেন্দ্র, নিজস‍্য স‍্যাটেলাইট উৎক্ষেপন, কর্নফুলী টানেল এবং পদ্মসেতুসহ আরও বহু মেগাপ্রকল্প।
আজকে যে শিশুর গ্রামে জন্ম হবে, সে টেকনোলজির ছোঁয়া নিয়েই বেড়ে উঠবে এবং গড়ে উঠতে থাকবে গ্রামীন জনপথ থেকে আগামী দিনের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিনিধি হিসাবে। সেই লক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার তরুণ প্রজন্মের আইকন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে বিরামহীন ও নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন।

গ্রামীণ জনশক্তিকে দক্ষজনশক্তিতে (Skilled manpower) রূপান্তরিত করার লক্ষে আওয়ামীলীগ সরকার বহুমুখী প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার লক্ষে অত‍্যাধুনিক অবকাঠামোর বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত (No hunger and No poverty) একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন‍্য দেশবাসীকে এগিয়ে আসা উচিত।

এই বিভাগের আরও খবর লেখক থেকে আরও