ত্রান চায় না, টেকসই বাঁধ নির্মান চায়ঃ উপকূলবাসী

হাবিবুর রহমান-৫নংকৈখালী,ইউ,পি,শ্যামনগর,উপজেলা।
সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর,বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের,সীমান্তে অবস্থিত।বঙ্গোপসাগরের, এবং সুন্দরবনের,কোল ঘেঁষে অবস্থিত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলাটি।প্রায় প্রতি বছরই,এই উপজেলার দিয়ে। বঙ্গোপসাগরের সৃষ্টি হওয়া,নিম্নচাপ,জলোচ্ছ্বাস,ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় প্লাবিত।এই ধরনের বড় বড়,দূর্যোগ পূর্ণ বিপর্দজনক, আবহাওয়ার প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করে,দুর্বিষহ মানবতার,জীবন যাপন পরিচালনা করে।দরিদ্র সীমার নীচে বেঁচে থাকা সহায় সম্বলহীন মানুষ গুলো,সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার।বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবনের উপকূলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, দূর্যোগপূর্ণ চিন্তিত ইউনিয়ন গুলো হল।(1) ১২নং‌ গাবুরা ইউনিয়ন।আয়তন,৩৩ কিঃমিঃ। জনসংখ্যাঃ ৫১,০০০/ জন।(2‌) ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়ন। আয়তনঃ ৩৪ কিঃমিঃ। জনসংখ্যাঃ ৪০,০০০/ জন।
(3) ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন।
আয়তনঃ ৪৪কিঃমিঃ।
জনসংখ্যাঃ ৪৮০০০/ জন।
(4) ৭নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন।
আয়তনঃ ৪৯কিঃমিঃ।
জনসংখ্যাঃ ৫৩,০০০/ জন।
(5) ৫নং কৈখালী ইউনিয়ন।
আয়তনঃ ৪৯ কিঃমিঃ।
জনসংখ্যাঃ ৫০,০০০/জন।
(6) ৬নং রমজান নগর ইউনিয়ন।
আয়তনঃ ৩৭ কিঃ মিঃ।
জনসংখ্যাঃ ৩১০০০/ জন।
সুন্দরবনের উপকূলীয় দূর্যোগ পূর্ণ চিন্হিত স্থান।এই ৬ টি ইউনিয়ন,সবচেয়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।
সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের সৃষ্টি সকল প্রাকৃতিক দূযোর্গের,প্রথমই আঘাত আনে ।
এই ছয়টি ইউনিয়নের উপরে।
এবং এই ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ লক্ষ জনগনের বসাবাস।
বেশিরভাগ জনগণই হতদরিদ্র এবং নিম্নআয়ের, জেলে পরিবার।
এই ৬টি ইউনিয়নের আয়তনঃ ২৫৬ বর্গ কিঃ মিঃ। সুন্দরবন উপকূলীয়, ভেড়ীবাঁধ ওয়াপদার কেয়ার রাস্তা।
অত্র,অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের, ভুক্তভোগী জনতার মূখ্য প্রাণের দাবি একটাই।
সুন্দরবনের ও বঙ্গোপসাগরের,উপকূলের ইউনিয়ন গুলোর ভেড়ীবাঁধ ওয়াপদার কেয়ার রাস্তা গুলোকে, ডাম্বিং ও ব্লকের সমন্বয়ে টেকসই মজবুত ভাবে সংস্কারের দাবি জানান,সুন্দরবন উপকূলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভুক্তভোগী জনগণ।
তাদের কথা গুলো হলো।
“আমরা” ১৯৮৮ইং ,১৯৯৬ইং আইলা,সিডর, বুলবুল,এর মত বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি।
আমরা দেখেছি ঝড়ের পর পরি, বির্ধস্ত এলাকা গুলোতে ।
বিভিন্ন এনজিও সংস্থা হাজার হাজার কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা দেয়েছিল, এবং এখনও দিচ্ছে।
শুধুমাত্র উপকূলীয় অঞ্চলের, অসহায় দরিদ্র মানুষ গুলোকে ভালো রাখার জন্য।
কিন্তু, যে কাজটি করলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষগুলো ভালো থাকবে।
কিন্তু, খুবই দুঃখের বিষয় হল,
সেই কাজগুলো,কোন এনজিও বা বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিরা গ্রহণ করে নাই। বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলীয় জনগণের একটাই চাওয়া।উপকূলীয় ইউনিয়ন গুলোর বেড়ীবাঁধ ওয়াপদার কেয়ার রাস্তা গুলোকে মজবুত টেকসই দুর্যোগ মোকাবেলার উপযোগী বেড়িবাঁধ সংস্কার।তাহলেই ভালো ভাবে জীবন যাপন করতে পারবে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষ গুলো।
এখানে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের,বেড়ীবাঁধ ওয়াপদার উপরে।
শত শত নাইনটি টিউবওয়েল কল স্থাপন করা আছে। আবার বেড়ীবাঁধ ওয়াপদার নিচে দিয়ে পাইপ বসানো হয়েছে। আর এই ধরনের অবৈধ স্থাপনার জন্য গোটা উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়ীবাঁধ ওয়াপদার গুলো কে ঝুঁকি পূর্ণ দূর্বল করে চলেছে,এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী।
যা শুধু মাত্র, জোয়ার ভাটার পানি,উঠানো আর নামানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।
এই ধরনের অবৈধ স্থাপনার জন্য, নদীর চর থেকে, ঘন ঘন পানি উঠানো ,বা সরানোর কারণে অসংখ্য ডেরেন সৃষ্টি হওয়ায়।
নদীর চর ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে, একটা সময় ঠিক এই জায়গা থেকে, ভয়ংকর নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়।
বঙ্গোপসাগর থেকে, রায়মঙ্গল অর্পশিগাছিয়া, মালঞ্চ ও পশুর নদীর মাধ্যমে,জোয়ার-ভাটার পানি কালিন্দী, মাউন্দে, কপোতোক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী গুলোর উপর।জোয়ার-ভাটার সময় একটা,অতিরিক্ত পানির চাপ সৃষ্টি করে।

প্রচন্ড স্রোর্তের ফলে,ভেড়ি বাঁধ ওয়াপদার নদীঅংশে বড় বড় ভাঙ্গনের সৃষ্টি করে।
তাই তো অধিকাংশ সময় এই এলাকা গুলো প্লাবিত হয়।
ঘটে যাওয়া ঘটনা, যেমন,২০০৯ ইং সালের ২৫শে মে-রোজ সোমবার।
ঘটে যাওয়া, প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলায়,বিধ্বস্ত করে দিয়ে যায়, অত্র অঞ্চল গুলোকে।
কি করুণ,হৃদয় বিদারক অবস্থা হয়েছিল।তা লিখিতো ভাষায়, বাস্তব চিত্র ফুটুয়ে তোলা অসম্ভাব।আইলার পরের দিন সকালে দেখা যায়, চারদিকে পানি আর পানি।
চারি দিক দিয়ে, বয়ে চলেছে স্রোত আর স্রোত।
অত্র অঞ্চলের বসতভিটা, ঘরবাড়ি ফসলি জমির ধান।
বাগদা চিংড়ির ঘের গবাদিপশু,ও হাঁস-মুরগি গরু-ছাগল,গাছপালা,ঘরের ভিতরে রক্ষিত।
নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল,সবকিছু যেন উপড়ে ধুয়ে মুছে, স্রোতের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে, বঙ্গোপসাগরের দিকে।
কি করুণ,হৃদয়বিদারক দুর্বিষহ বির্ভষ চিত্র।
স্বয়ং নিজের চোখে,না দেখলে।
লিখিত ভাষায়, ঘটে যাওয়া দুর্দান্ত,লোমহর্ষক,চরম বাস্তবতার।
নিদারুণ কষ্টের চিত্র গুলো,সম্পূর্ণ রূপে ফুটিয়ে তোলা,একেবারেই সম্পুর্ণ রুপে অসম্ভাব।
চারিদিক থেকে ভেসে আসছিল,লাশ আর লাশ। আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল,স্বজনহারাদের আর্তনাদে।
আকাশে বাতাসে চারিদিক থেকে,ভেসে বেড়াচ্ছিল, গ্রামবাসীদের কান্নার রোল।
আবার সঙ্গ সঙ্গে দেখা দিল ভীষন দুর্ভিক্ষের মহামারী।
আর সাথে সাথে বেড়ে গেল পানি বাহিত রোগের ছড়াছড়ি।
তার পর পরি শুরু হলো,খুবই ভয়ংকার বিপজ্জনকভাবে,খাদ্যের সংকটাপন্ন অবস্থার। পেটে ক্ষুধার জলন্ত আগুন,
কিন্তু কোথাও এক মুঠো খাবার নাই ।
পানি তৃষ্ণায় বুক ফেঁটে চৌচির হয়ে যাঁচ্ছে,কিন্তু কোথাও এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি নাই।মায়েরকোলের শিশু বাচ্চাটি সজরে চিৎকার করেছে ক্ষুধার যন্ত্রনায়। এক ফোটা দুধ খাওয়ার জন্য,কিন্তু খুবিই দূর্ভাগ্গের বিষয় হল,মায়ের বুকের স্তানে,এক ফোঁটা দুধ ও অবশিষ্ঠ নাই।অসহায়
সেই মানুষ গুলো অনহারে,পচা দূর্গন্ধের, নোংরা পরিবেশের দূষিত পানি পান করার কারণে, পানি বাহিত রোগ হয়। কলেরা,টাইফয়েড,যক্ষা,আমাশায়,সর্দি জ্বর, সর্দি কাসি, ইত্যাদি, রোগে আক্রান্ত হয়ে, বহু লোক মারা যায়,সু-চিকিৎসার অভাবে। পরে বহু ধরনের সরকারি অনুদানে।এবং সরকারের সার্বিক সহযোগিতায়।ও বৈদেশিক অর্থয়ানে পরিচালিত বহু সংখ্যক বেসরকারী এন জি ওর মাধ্যমে,ত্রান বিতারণ করা হয়। অসহায় হত দরিদ্র,ক্ষুধার্ত এই মানুষ গুলো তখন কিছু টা হলেও , হঠাৎ থেম্কে যাওয়া জন জিবনকে আবার নতুন ভাবে পরিচালনা করতে শুরু করে।হাজার হাজার কোটি টাকার মালামালএবং ত্রান সহয়তা দেন।সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা গুলি।গৃহ হারা পরিবারকে ঘর বানিয়ে দেন।বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্হা করে দেন,এবং স্বাস্হ্য ও পরিবেশ সম্মত স্যানিটারি ল্যার্টিনের ব্যবস্হা করে দেন।এবং দূর্যোগ কালীন প্রতিকূল অবস্থায়ে জান মালের নিরাপর্ত্তা রর্ক্ষকার র্স্বার্থে, প্রতের্ক ওয়ার্ডে সর্ব নিম্ন মোটে না হলেও, একটি করে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে।কিন্তু অতিশয় চরম দূ্র্ভাগ্যোর বিষয় হল যে ,সামান্য হালকা ঝড়ো হাওয়ায় বেড়ীবাঁধ ওয়াপদা ভার্ঙ্গনের ভয়ে রাতে ঘুমোতে পারেনা ভুক্তভোগীরা।
সর্বদা তাদের মনের ভাবনাকে বির্চলিৎ করে রাখে।আর ঐ যেন কখন আবার।কোন এক ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে ভেড়ী বাধেঁর ওয়াপদা প্লাবিত হয়ে, আবার কখন,কোন মায়ের কোল, খালী করে চলে যায়।

এই দূর্বল চিত্তের ভাবনা গুলোই,নদীর পাড়ের বসাবাসকারী হতদরিদ্র নিম্নআয়ের মানুষ গুলো। ভয়নক একটা আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে অত্র অঞ্চলের জনগণ ও র্সব সাধারণ সকলেই, খুবিই র্দূবিষহের মধ্যে দিয়ে,মানবতার জীবন যাপন করছে।
অত্র এলাকার সর্ব সাধারণ এবং সর্বস্তরের জনগণের একটাই, মনের আকুতি, এবং প্রত্যেকটি প্রাণের নিবিড় ভাবে চাওয়া।
আমরা ত্রাণ চাই না। ত্রাণের পরিবর্তে ওয়াপদা চাই। আমরা ঝূঁকিহীন ভাবে বেঁচে থাকার জন্য, টেকসই সুন্দর,মজবুত ও নিরাপদ, ঝুঁকি বিহীন একটা বেড়ীবাঁধের ওয়াপদার রাস্তা চাই।

সাতক্ষীরা জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক স্যারকে এবং ওয়াপদা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কর্মকর্তা মহাদ্বয় স্যারকে, অনুগ্রহপূর্বক মানবতার সজাগ দৃষ্টি তে অবলোকন করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এবং শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা,এসিল্যান্ড স্যার এবং সমাজকল্যাণ স্যারকে । উপকূলীয় অঞ্চলের ভেড়িবাঁধ ওয়াপদার রাস্তার সংস্কারের জন্য সুদৃষ্টির কামনা করছি। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব এবং মন্ত্রী মহোদয় স্যার।
এবং বাংলাদেশ দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ও মন্ত্রী মহোদয় স্যার। এবং সর্বশেষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় স্যার কে।দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী এই উপকূলীয় অঞ্চলের। সর্বসাধারণের একমাত্র দরদ ভরা আকুতি বা দাবি। দুর্যোগপূর্ণ চিন্তিত স্থান,এই ৬ টি ইউনিয়নের ২৫৪ কিলোমিটার ভেরিবাধঁ ওয়াপদার রাস্তার ভিতর ১২০ কিলোমিটার নদীর ভাঙ্গনে অসম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিরাজ করছে। যদি অতি দ্রুত তড়িৎ গতিতে সংস্কার করে হয়।তাহলে দক্ষিণ অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গুলো । মিনিমাম ৩৫থেকে ৪০ বছর নিশ্চিন্তে বসবাসের যোগ্য স্থানে পরিণত হবে। বাংলাদেশর সাতক্ষীরা জেলাটি হোয়াইট গোল্ড নামে পরিচিত ।শুধুমাত্র কাকড়া ও চিংড়ি চাষের জন্য। এখানকার উৎপাদিত মাছ বিদেশে রপ্তানি করে।বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে সাতক্ষীরা জেলা টি।এবং ৩০% বৈদেশিক রেমিটেন্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ,গুনী ব্যাক্তি দের ধারণা।

You might also like More from author