পার্বত্য চট্টগ্রাম: বান্দরবানে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ নিয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের উদ্বেগ পারমিতা হিম।

মোঃ আঃ আজিম লাবু বিশেষ প্রতিনিধি।

বহিরাগতদের আগমনে ম্রো নারীরা নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বেন বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে একটি পাঁচতারা রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করেছেন সেখানে বসবাসরত ম্রো সম্প্রদায়। এ রিসোর্টটি নির্মাণ করছে সিকদার গ্রুপ ও সেনা কল্যাণ সংস্থা।
চিম্বুক পাহাড় এলাকায় নাইতং পাহাড় নামে পরিচিত স্থানটিতে রিসোর্ট তৈরির জন্য ২০ একর জমি সেনাবাহিনীকে ইজারা দিয়েছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন। স্থানীয় ম্রো অধিবাসীদের দাবি, তাদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ জমি ইজারা দেয়ার সম্মতি আদায় করা হয়েছিল।
চিম্বুক পাহাড়ের কাপ্রুপাড়ার বাসিন্দা তাং লেং ম্রো। ৫০ বছর ধরে সেখানে থাকা এ নারী বলেন, জেলা পরিষদ বাগান করার কথা বলে জায়গাগুলো নিয়েছে। তারা বাগান করতে চাইলে সেটাও আমাদের ইচ্ছাতেই হউক। কিন্তু কোনভাবেই পর্যটন চাই না।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে থাকা ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা জুম চাষ। এ জুম চাষের জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন তারা।
কাপ্রুপাড়ার জুম চাষী লং নান ম্রো বলেন, যেখানে রিসোর্ট বানাচ্ছে তার চারধারে এখনই আমাদের যেতে দিচ্ছে না। এখনই আমাদের জুম চাষ করার জায়গা নাই, হোটেল হলে তো আমাদের অবস্থা আরো খারাপ হবে।
ম্রো জনপদে উচ্ছেদ আতংক কেন?
বান্দরবানের চিম্বুক-থানচি সড়কের পাশে ২০ একর জমিতে ‘ম্যারিয়ট-চন্দ্রপাহাড় রিসোর্ট আ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক’ নামে এ পাঁচতারা রিসোর্ট নির্মাণ করছে সিকদার গ্রুপের আর অ্যান্ড আর হোল্ডিংস ও সেনা কল্যাণ সংস্থা।
সেখান থেকে নীলগিরি আর্মি রিসোর্ট পর্যন্ত ক্যাবল কার চালুর পরিকল্পনাও আছে তাদের।
আর আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু ২০ একর নয়, এসব স্থাপনার কারণে প্রকৃতপক্ষে ১ হাজার একর জমি তাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ১০ হাজার মানুষ।
ম্রোদের বিক্ষোভ
পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করেছেন সেখানে বসবাসরত ম্রো সম্প্রদায়।
আন্দোলনকারীদের একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেং ইয়ং ম্রো। তিনি এখন নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপন করে আছেন।
তিনি বলেন, হোটেল ২০ একরের হলেও এখনই তারা এর চেয়েও বেশি এলাকাজুড়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। তারা যে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে ক্যাবল কার বানাবে, সে স্টেশনগুলি তো এই ২০ একরের হিসাবের বাইরে।
তাছাড়া হোটেল ও বিনোদন পার্কে বহিরাগতদের আগমনের কারণে ম্রো নারীরা নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বেন বলেও মনে করেন আন্দোলনকারীরা।
তবে এসব আশংকা একেবারেই অমূলক বলে দাবি সিকদার গ্রুপের।
তাদের দাবি, ওই এলাকার দশ কিলোমিটার জুড়ে কোনো জনবসতি নেই। কখনো ছিল না। সেখানে পর্যটনের বিকাশ হলে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এমনটাও বলছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর লেখক থেকে আরও