ভালোবাসার দাবী

শেখ মফিজুর রহমান

একমুঠো ভাত আর দু’টো টাকা দিয়ে
আমাকে এড়িয়ে গা ঢাকা দিতে পারো
অথবা এর সাথে যোগ করতে পারো
ক্ষণিকের উছলে পড়া করুণা।
কিন্তু আমার আফসোস কি জানো?
তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসা দিতে পারো না!
আমি যে হতে পারি না কারো ভালোবাসার বরুনা!
কোন এক নিদারুণ নির্দয় নিষ্ঠুর মুহূর্তে
হয়েছি চরম লাঞ্ছিত ,ভাগ্যবিড়ম্বিত!
সেই লাঞ্ছিত আমাকে খাবার দেয়া যায়,
টাকা দিয়ে সাহায্য করা যায়,
বেশি কষ্ট হলে করুণা দেয়া যায়
কিন্তু ভালোবাসা?
তা কি আর দেয়া যায়!
আমি যে ধর্ষিতা!
কি লজ্জা! কি লজ্জা!
কিন্তু আমি তো কারো আদরের মেয়ে ছিলাম
কারো স্নেহের বোন ছিলাম,
কারো গোপন প্রেমের আরাধ্য দেবী ছিলাম
কিন্তু আজ আমার একটাই পরিচয় –
আমি ধর্ষিতা
আমি কলংকিনী
আমি অভিশপ্ত,
আমি যে বড্ড অপয়া!
রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পাগলিনী হই
ঘরে বন্দী হয়ে থাকা ভীত কিশোরী হই
মায়ের আঁচল ধরে থাকা কম্পমান শিশু হই
লজ্জিত ব্যথিত মধ্যবয়সী নারী হই
আমার পরিচয় যদি হয় ধর্ষিতা
তবে আমি ঘৃণিত, ভালোবাসা বঞ্চিত!
একটা প্রশ্ন আছে আমার,
তোমার প্রতি
সমাজের প্রতি
সবচেয়ে বেশি নিজের প্রতি-
আচ্ছা, আমার কি অপরাধ ছিল?
আমার পরিহিত মিনিস্কার্ট?
কিন্তু ওর যে মাথায় হিজাব!
এই যে দেখ, এর পরনে যে কেবলই ফ্রক!
আমি নারী এটাই কি আমার অপরাধ?
নাকি তোমরাই মানুষ নও?
এসব নিয়ে তর্ক করো,
যুক্তির বেড়াজালে মুক্তি খোঁজ
সংবাদ শিরোনাম হোক দিনের পর দিন
গোল টেবিলে চলুক আলোচনা
কিন্তু আমার দাবী একটাই –
আমার ভালোবাসা চাই,
নারী হিসেবে নয় একজন মানুষ হিসেবে।

বিঃদ্রঃ লেখাটা পড়লেই মনে হবে কোন ভাগ্য বিড়ম্বিত ধর্ষিতা মেয়ের আত্মকথন। আমি বিশ্বাস করি একজন কবির হৃদয় সবার ব্যথায় ব্যথিত হয়, সবার আবেগ ছুঁয়ে যায় তার হৃদয়। সেই ব্যথার অনুরনন থেকেই এই কবিতা লেখার চেষ্টা।

You might also like More from author