মুজিব জন্মশত বার্ষিকীতে ম্যুরাল নয়, অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

গন টেলিভিশন

মুজিব শতবর্ষে বরাদ্দে ম্যুরাল নয়, অসহায় দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে বাড়ি বানিয়ে দিন: এই নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বা ছবি সংবলিত বড় ব্যানার তৈরি না করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ম্যুরাল ও ব্যানার তৈরি করতে অনেক অর্থ ব্যয় হবে, সেই অর্থ দিয়ে দুস্থ-অসহায়দের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দিলেই জনকল্যাণ হবে। অতিরঞ্জিত কোনো কিছু করার প্রয়োজন নেই। অতি উৎসাহী হয়ে বড় বাজেটের নতুন কোনো কর্মসূচি না নেওয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।গত সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় সচিবদের এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা।

মুজিব শতবর্ষের কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তার সাধারণ বাজেট থেকে মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠান করবে। যদি ভিন্ন কোনো বিষয় থাকে, তাহলে অতিরিক্ত টাকার চিন্তা করা যেতে পারে; কিন্তু বড় বড় বাজেট দিয়ে নতুন কাজ করার প্রয়োজন নেই।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- অর্থ বিভাগ মুজিবশতবর্ষ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসূচি নিয়েছিল- ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় লাখ পেনশনার বাড়িতে বসে পেনশন সুবিধা পাবেন। এ কর্মসূচি তারা মুজিবশতবর্ষের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ রকম ভালো কোনো কর্মসূচিকে মুজিবশতবর্ষের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা যাবে।’
তিনি বলেন, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নতুন নতুন কর্মসূচি নেওয়ার দরকার নেই। যে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে তা যেন মানুষের কল্যাণে বা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তাহলে সেটিই মুজিব শতবর্ষের জন্য সার্থক হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে করা জাতীয় কমিটির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বাজেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত খরচ সমন্বয় করতেই বাজেট কমিটি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলীয় ব্যানারে কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়া আছে- জাতীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এ দলীয় কর্মসূচি পালন করতে হবে।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রত্যন্ত এলাকায় পাবলিক বিশ্ব্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা এই আইনের অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিসভা গতকাল ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২০’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণ করেই এ আইনটি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ নিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও প্রকৌশল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ২০টি। এর মধ্যে ১৯টির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কৃষকদের সমবায়ভিত্তিক চাষবাদের সুযোগ :কৃষকদের সমবায় ভিত্তিতে ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদের সুযোগ রেখে ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, কৃষির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ নীতিটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণ সেবা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন- কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, বিপণন ও সম্প্রসারণ সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীজনসহ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে চাহিদাভিত্তিক গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই নীতি প্রণীত হয়েছে।

You might also like More from author