শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতার অপব্যবহার জাতির কলঙ্ক

ডক্টর অবিনাশ চন্দ্র মিস্ত্রী
সিনিয়র গবেষক এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকা।

গণ টিভি আমেরিকা প্রতিনিধিঃ

বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পূর্বের নিয়োগ কৃত শিক্ষকগণ বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফিল্টারিং হয়ে পুনরায় নিজ নিজ পেশায় আসতে হবে। শিক্ষা পদ্ধতি ধাপে ধাপে পরিবর্তন করে উন্নত বিশ্বের সাথে সমন্বয় করে বৈশ‍্যিক চ‍্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানের লক্ষে জাতিকে প্রস্তুত করতে হবে।

এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির সুচনা এবং সেই ধারাবাহিকতায় তারই সুযোগ‍্যা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমে অদম্য গতিতে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। যাহা সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে।

যে বাংলাদেশকে ‘৭৫’ পরবর্তী সময়ে পিছনের দরজা দিয়ে বের করে পাকিস্তানের দিকে ধাবিত করা হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ আজ সকল সুচকে এশিয়ার মধ্যে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। আজ সমগ্র বিশ্বে পাঁচটি উদীয়মান উন্নয়নশীল দেশের মধ‍্যে স্থান করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশ। এক দশকের মধ‍্যে হয়ত সিঙ্গাপুর ও জাপান কাতারে চলে যাবে।

আমাদের শক্তি হচ্ছে, আমাদের তরুণ মানব-সম্পদ, যাদের কে উৎপাদনমুখী কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে গড়ে তুলতে হবে। জাপান ও চীন এভাবেই তাদের মানব সম্পদকে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তুলে এর সুফল ঘরে তুলেছে। তবে স্বজন প্রীতি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, বিবাহের প্রতিশ্রুত বা অন্য কোন অবৈধ পন্থায় শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হলে, সেই অযোগ্য শিক্ষক অসংখ্য অযোগ্য-প্রোডাক্ট কিংবা উঁই পোকা(দুর্নীতিবাজ জেনারেশন)তৈরী করে সমাজে ও রাষ্ট্রে রন্ধ্র রন্ধ্রে ছেড়ে দিবে। এই উঁই পোকার দল শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমে তিল তিল করে গড়ে তোলা উন্নয়নের ফসল খেয়ে ফেলবে।

বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহদার কিংবা দেওয়ালে লেখা আছে “কোন জাতিকে ধ্বংস করার জন‍্য পারমানবিক হামলা কিংবা ক্ষেপোনাস্ত্র নিক্ষেপের দরকার নেই। বরং সেই জাতির শিক্ষাঙ্গনে অযোগ্য ও দুর্নীতি পরায়ণ শিক্ষক নিয়োগ দিলেই হবে”। সুতরাং উন্নত জাতি গঠনে প্রথমে নিয়োগ দিতে হবে উন্নত জাতের মেধাবী শিক্ষক ও বস্ (Leader)। একজন মেধাবী দক্ষ ও সৎ শিক্ষকই পারে একটি বিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষ জনশক্তির সূতিকাগার হিসাবে গড়ে তুলতে।

যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রজ্ঞা, জ্ঞান, মুল‍্যবোধ ও নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন জাতির মাথা থেকে পচন শুরু হয়। এমতাবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম এখনই বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে পুনরায় ক্লাশরুমে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং Nonprofit Organization এর মর্যাদা দিতে হবে। বাংলাদেশের সন্তান হয়েও আমরা আমেরিকাসহ অন‍্যন‍্য উন্নত দেশে এই ধরনের কাজগুলো সফলতার সাথে করে যাচ্ছি।

আমি শিক্ষা জীবনে সকল স্তরে প্রথম শ্রেনী/বিভাগ প্রাপ্ত ছিলাম, উল্লেখ্য, B.Sc (Hons) এ First class First ও M.Sc. তেও First class First (Science Faculty First), Gold Medalist, Applied Chemistry & Chemical Technology বিভাগে। আমার সময়ে (আমাকে ছাড়া) ছয় জনকে এই বিভাগে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েক জনের শিক্ষা জীবনে মাত্র দুটি স্তরে First class (SSC & MSc) প্রাপ্ত ছিল, অন্যদের চারটি স্তরে First class প্রাপ্ত ছিল, কিন্তু Ranking এ সবাই আমার অনেক নিচে ছিল। সর্বপরি সেদিন Interview Board এ আওয়ামী ঘরনার ভিসি থাকার সত্ত্বেও আমাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমাকে Interview বোর্ডে বলা হয়েছিল, আমি নাকি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। সেদিন মন খারাপ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু হতাশায় ভেঙে পড়েনি। বরং এটাকে চ‍্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। তারপর জন্মভূমি ছেড়ে বিদেশ বিভুইয়ে অজানা উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছিলাম এবং Tokyo Institute of Technology (TIT) থেকে ডিগ্রী(PhD & Post Doc) করার পর শিক্ষকতার জন্য একমাসের মধ‍্যে তিনটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে (Tokyo University, Singapore National University এবং Emory University of Medical School, USA) নিয়োগ পত্র পেয়েছিলাম। পরে Emory University, USA তে চলে যাই 2004 সালে, আজও আছি সেখানে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পুরো বিশ্ব যখন এক গভীর সঙ্কটের মধ্যে নিপতিত, লকডাউনে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনজীবন যখন স্থবির, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বিবেচনা করে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, দেশবাসী ও প্রবাসীদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা জন‍্য আহবান জানিয়েছিলেন। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন‍্যা শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে আমি যশোরের জলাবদ্ধ এলাকায় নিজস‍্য অর্থায়নে আমেরিকার আদলে “সুন্দলী কমুনিটি ফুড ব‍্যাংক” প্রতিষ্ঠা করি এবং অভয়নগর উপজেলার UNO জনাব নাজমুল হুসেইন, যশোর ক‍্যান্টনমেন্টের একজন মেজর এবং সরকারের পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় হাজার হাজার দুর্যোগ কবলিত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ব‍্যবস্থা করেছি। ঐ এলাকার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অসংখ্যা দেশপ্রেমিক কর্মীবৃন্দ সেদিন শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে COVID-19 ভয়াবহতা জেনেও মানুষের মুখে খাবার পৌঁছে দিতে রাস্তায় নেমে এসেছিল। আজও তাহা অব্যাহত আছে। আমি আওয়ামীলীগের একজন প্রবাসীকর্মী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষক হিসাবে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে এই মহতি কাজের জন‍্য বিশ্বমানবতার মা (Mother of humanity) শেখ হাসিনার কাছে আমার দুঃসাহসিক দেশপ্রেমিক আওয়ামীকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি চাই।

এই বিভাগের আরও খবর লেখক থেকে আরও