শ্যামনগরে ঘুর্নিঝড় “বুলবুলের” আঘাতে ১৫৬ টি সুপেয় পানির আধাঁর নষ্ট

মো জামিনুর রহমাম,ব্যুরো চীফ,শ্যামনাগর
থেকেঃ ১০ নভেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলে ঘটে যাওয়া ঘুর্নিঝড় “বুলবুলের” আঘাতে লন্ডভন্ড হয়েছে উপকূল এলাকা। বুলবুলের অাঘাতে বাংলাদেশের স্বর্ব বৃহৎ উপজেলা শ্যামনগরের ১২ টি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে এ উপজেলায় কোন প্রানহানির ঘটনা না ঘটলেও ঝড়ের সময় ঘরের উপর গাছ পড়ে আহত হয়েছে অনেকেই। লন্ডভন্ড হয়েছে কয়েক হাজার বসতবাড়ী। বিদ্যুতের খুটি ভেঙে ও বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্হা বর্তমানে বিচ্ছিন্ন।

৩ লক্ষাধিক গাছপালা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। মারা গেছে গৃহপালিত ও বন্য পশুপাখি, নষ্ট হয়েছে বসত ঘরের আসবাবপত্র, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমগ্র উপকূলের ভেঁড়ীবাধ। তেমনিভাবেই দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্যামনগর উপজেলার ফিল্টার সংযুক্ত ১৫৬ টি সুপেয় পানির পুকুর। প্রচন্ড ঝড়ের ফলে গাছপালা পুকুরগুলোতে পড়েছে। ফলে পানিতে গাছপালাগুলো পড়ে পচে পানির রং নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ হচ্ছে। ফিল্টার সংযুক্ত পানির পুকুরগুলো ইতিমধ্যে পানি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুপেয় পানির আশায় নারীদের মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে বর্তমানে অন্যত্র থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে । স্বরজমিনে দেখা গেছে গ্রামের মানুষ পানি না পেয়ে এখন দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরের পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে মানুষের পেটের পিড়া,চর্মরোগ সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে । কালমেঘা গ্রামের সুপেয় পানির পুকুরে ৪/৫টা গাছ পড়ে পানি পচে পানি দুর্গন্ধ হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে এই পুকুর থেকে প্রতিনিয়ত ৬ গ্রামের হাজারো মানুষ পানি খায় আসে পাশে লবন পানি তাই বাধ্য হয়ে এই পানি পান করতে হচ্ছে। বুলবুলের কারনে পুকুরে গাছ লতাপাতা পড়ে সেগুলো পচে সম্পূর্ণ পুকুরের পানি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের এলাকার মানুষের পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

” মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের সুপেয় পানির পুকুর সংরক্ষন কমিটির সদস্য প্রকাশ মন্ডল জানান-” আমাদের চারপাশে লবন পানি। এলাকার মানুষের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস্য কালিনগরের এই পুকুরটি। এলাকার ৬০০ পরিবার এই পুকুরের উপর নির্ভরশীল। স্বেচ্চাসেবী সংগঠন সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম সুপেয় পানির জন্য পুকুরটি ৩ বছর ধরে নেট দিয়ে ঘিরে পুকুরটি সংরক্ষণ করে রেখেছে কিন্তু পুকুরটি ঘুর্নিঝড় বুলবুলের তান্ডবে পুকুরে গাছ পড়ার ফলে পরববর্তীতে গাছ পুকুরের পানিতে পচে পুকুরের পানি কালছে হয়ে গেছে এবং খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।” আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাধু রঞ্জন জোয়ারদার বলেন-” আমার ১ বিঘা পুকুর ছিলো, পুকুর পাড়ে চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিলো, যেগুলো ঝড়ের কারনে পুকুড়ে পড়ে পুকুররের পাড় যেমন ভেঙেছে তেমনি পুকুরের পানি নষ্ট হওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পুকুরের বিভিন্ন প্রকার মাছের রোগের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরো জানান পুকুরটিতে ৪০টির অধিক পরিবার খাওয়া সহ অন্যান্য কাজে পানি ব্যবহার করতো এবং পুকুর থেকে প্রতি বছর বড় অংকের টাকা আয় হতো।”

ঘুর্নিঝড় বুলবুলের কারনে বাদঘাটা গ্রামের ফিল্টার সংযুক্ত সুপেয় পানির পুকুরের মালিক আব্দুর রউফ জানান-“ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের ফলে পানিতে গাছ পড়ে পচে পানি গন্ধ হয়ে গেছে ফলে এলাকার মানুষ পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং মাছ মারা যাচ্চে।” বাদঘাটা গ্রামের বাসিন্দা গোকুল চন্দ্র মন্ডল বলেন-“পানি না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে পুকুরের দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করছে ফলে পেটের পিড়া ও চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে।” সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বর্তমানে এলাকা বাসীর একমাত্র দাবী দ্রুত সুপেয় পানির আধারগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে সংরক্ষণপূর্বক মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলা।

You might also like More from author