শ্যামনগরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সুযোগে মানব সৃষ্ট বন্যা! অতঃপর পানি নিষ্কাশনে বাঁধা!

স্টাফ রিপোর্টারঃ-
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা র ১০ নং আটুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বেড়ালক্ষীতে ঘের মালিকরা বেশি লাভের আশায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল চলাকালীন সময়ে নদীর জোয়ারের পানি (নাইনটি) কল দ্বারা উঠিয়ে এলাকা প্লাবিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন শ্রেণীর হতদরিদ্র মানুষেরা । কাঁচা বাড়ি ঘর রাস্তা ঘাট ভেঙে চুরমার! মৎস ঘের, খাবার পানির পুকুর একাকার! সবজি বাগান, গাছ গাছালি লবন পানির প্রভাবে মরে যাচ্ছে- কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরব ! পূর্ব বেড়ালক্ষীর অবদা ক্ষতিগ্রস্ত শুধু মাত্র ঘের মালিকদের কারনে ! অবদার উপর দিয়ে পাইপ ( নাইনটি )লাগিয়ে পানি তুলছে ঘের মালিকরা, পাইপ যথাযথ লম্বা না হওয়ায় অবদার দু পাশেই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, ভেঙে যাচ্ছে অবদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। অবদা কতৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকলে ও অনেকেই আবার অবদা কেটে পাইপ বসিয়ে পানি উঠাচ্ছে , সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব বেড়ালক্ষী গ্রামের মৃত সৈয়দ গাজীর পুত্র মোঃ রেজাউল গাজী (৫৮)।মৎস ঘেরে পানি ওঠানোর জন্য নাইনটি সিস্টেম ব্যবহার করছেন, নাইনটি পাইপের দুপাশে প্রয়োজন মত পাইপ লম্বা না রাখায় ঠিক ওবদার গোড়ায় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আর সেখান থেকেই অবদা ভেঙে হতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা, ভেসে যেতে পারে কয়েকটি ইউনিয়ন। এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই পাইপ দিয়ে দুর্যোগ মুহূর্তে উল্টো জোয়ার উঠিয়ে এলাকা প্লাবিত করা হয়েছে, এ ব্যাপারে রেজাউল গাজীর সাথে সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুলবুলের দিনে অনেকেই বেশি মাছ ধরার আশায় জোয়ার ওঠাইছে , কিন্তু আমি এমনটা করিনি। তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যাপারে উনি এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নন । বললেন এলাকা প্লাবিত হলে ও আমার কিছুই করার নেই, আমার জায়গা দিয়ে আমি পানি সরতে দিবো না । তাই এলাকা প্লাবিত হলেও আমার কিছু যায় আসে না। পূর্ব বেড়ালক্ষী কিছু কিছু গ্রামবাসী আজও পানি বন্দি। এই অসহায় মানুষদের বাঁচানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিশেষ আবেদন করেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষেরা।

You might also like More from author