শ্যামনগরে জনশুমারি ও গৃহগণনা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ-

ইয়াছিন মোড়লঃ নিজস্ব প্রতিনিধি:
শ্যামনগর উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের বাস্তবায়নে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২০ এর সুপারভাইজার এবং গণনাকারী/তালিকাকারি নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, উপজেলার কাশিমাড়ী ও ভুরুলিয়া সহ ১২টি ইউনিয়নে পর্যাক্রমে উপরে উল্লেখিত পদে নিয়োগের জন্য শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। গত ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস অন্যান্য ইউনিয়নের মত কাশিমাড়ী ইউনিয়ন এর ও নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। এরপর গত ৯ ফেব্র“য়ারি ২০২০ তারিখে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের ওয়েবসাইট মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য ফলাফল প্রকাশিত হয়। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় চূড়ান্ত তালিকায় কাশিমাড়ী ইউনিয়ন এর সুপারভাইজার পদে তিনজনকে এবং তালিকা কারি/গণনাকারী পদে ১৯ জনকে চূড়ান্ত ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত না মেনে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি র অন্যান্য শর্তের মত অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল প্রার্থীর অবশ্যই অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকতে হবে এবং তাকে অবশ্যই এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। এছাড়া অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হবে। অথচ শ্যামনগর উপজেলা বারটি ইউনিয়নে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোন শর্তই না মেনে এই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেন। কাশিমাড়ী ইউনিয়ন এর একাধিক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেলেও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং জরিপ কাজে পারদর্শী তেমন কোন প্রার্থীর নাম তালিকায় স্থান পায়নি। অভিযোগে আরও জানা যায়, এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন নেই এবং এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেনা এমন ব্যক্তির নাম ও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। কাশিমাড়ী ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ইমামতাজ মেহেদী আদৌও স্মার্টফোন সম্পর্কে তার কোন অভিজ্ঞতা নেই এবং তার নিজেরও স্মার্টফোন নেই। অথচ চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম সুপারভাইজার পদে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা ইকবাল হোসেনের ক্ষেত্রেও। তালিকাকারী/গননাকারী পদে চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম থাকলেও অভিজ্ঞতা এমনকি এন্ড্রোয়েড ফোন কি জিনিস সেটাও সে জানেনা। অথচ শুধু ইকবাল হোসেনই নয়। এমন অভিযোগ ভুরুলিয়ার রফিকুজ্জামান সহ একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে। একটি ইউনিয়নে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ,অন্য ইউনিয়ন গুলো একই অনিয়মের পাহাড় পাওয়া যাবে। যথাযথ তদন্ত হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তির সকল শর্ত না মেনেই এই জনশুমারী ও গৃহগননা ২০২০ এ প্রার্থীদের স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ শ্যামনগরের সর্বত্রে মানুষের মুখে মুখে। তালিকা প্রনয়নে কিছুটা ত্রুটি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কর্তৃপক্ষএ ব্যাপারে নতুনকরে নিয়োগ বোর্ড গঠন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

You might also like More from author