সন্তান লালন‌ পালন করে মা বাবা পোলাও‌ মাংস খায় শশুর শাশুরি!!!

মোহাম্মদ হাসান আলী

সন্তান লালন পালন করে মা বাবা কিন্ত সন্তানের অর্জিত টাকায় পোলাও মাংস খায় শশুর শাশুরি,মা বাবা জীবন যাপনের জন্য বৃদ্ধ বয়সেও দিনমজুর খাটেন এমনি কথা বল্লেন করম আলি চাচা ( ছদ্য নাম) । জেলার সদর উপজেলার চর পাকুন্দিয়ার আশি বছর বৃদ্ধ করম আলী চাচা অত্যন্ত ভারাক্রন্ত মনে ভাবাবেগের সাথে বলেন বাবা কি আর বলব দিন মজুর খেটে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে ,লুঙ্গির পরিবর্তে গামছা পরে গোছল করে আবার একই লুঙ্গি পরে কষ্ট করে জীবন যাপন করে দু টাকা অর্জন করে ছেলের লেখা পড়ার খরচ জোটাতাম ,নিজে না খেয়ে ছেলেকে খায়াতাম যাতে সে লেখা পড়া করে মানুষ হতে পারে , সত্যি আজ সে মানুষ হয়েছে, অনেক বড় একজন মানুষ হয়েছে। এখন আর তার বাবা মায়ের কথা মনে নেই ,মনে নেই ছোট বেলায় যে বাবা কাধে করে প্রতিদিন স্কুলে যাবার পথে খাল পার করে দিত , যে বাবা নিজে কাপড় না পরে ছেলের জন্য ভাল শাট কিনত ,ছেলে স্কুলে যাবে বলে সেই বাবা আজ হয়েছে বাড়ির কাজের লোক আর মা যিনি দশমাস দশদিন গর্ভে ধারন নিদারুন কষ্ট প্রসব বেদনা সহ্য করে বুকের ধুদ খায়াইয়ে কলে কাখে করে মানুষ করেছে সেই মা হয়েছে আজ বাড়ির কাজের বেটি এটাই হচ্ছে পল্লী বাংলার ঘরে ঘরে । করম আলি চাচা জানান অনেক দিন ছেলেকে দেখিনা বাড়িতেও আসেনা তাই মহিদুল মিয়ার ছেলের নিকট হতে মোবাইল নাম্বার ও বাসার ঠিকানা জোগার করে নিয়ে ঢাকার ইদ্দেশ্য রওনা হলাম এই ভেবে যে ছেলে ঢাকায় বাসা করেছে দিন কালও ভাল যাচ্ছে তাই ভাবলাম বাকি জীবনটা ছেলের বাসায় কাটাইব ছেলে আমার অনেক বড়লোক হয়েছে। পোড়ার কপাল পোড়াই থাকে ঠাই হলনা ছেলের বাসায় ঘুরে বেড়াই রাস্তাঘাটে খেয়ে না খেয়ে বসে থাকি দিন কাটে অনাহারে । বুক ভরা আশা নিয়ে ছেলের সখের কত পিঠা নিয়ে শাক সবজী ফল মুল আর কত টাটকা কপি আলু বেগুন ঝিংগা পটল মিষ্টি কুমড়া চালতা লেবু সংগে নিলাম গাজর আতা খাবে ছেলে মনেহবে ছোটবেলার কথা বাসায় গিয়ে কলিংবেল টিপতেই দারোয়ান এসে জিজ্ঞ্যাস করে কাকে চাই দারোয়ান পরিচয় পেয়ে অতিআদরে মালিকের পিতা মাতারে উপরে নিয়ে যায় বৃদ্ধ দারোয়ান হাতেম আলি । ম্যাডামকে ডেকে সব জিনিস বুঝিয়ে দিয়ে বলেন স্যারের মা বাবা আসছেন দারোয়ানের মুখে স্যারের মা বাবা নাম শুনেই অগ্নি স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ফুলে ফুসে বলেন যত সব চাকর বাকর এসে বাসায় ভীর জমায় ,পুত্রের বউয়ের মুখে এহেন কথা শুনে নিরবে দু চোখ বয়ে নামে অশ্রূধারা ,বউ দারোয়ানকে ডেকে দু শো টাকা দিয়ে বলে কিসের বাবা মা এরা বাড়ির চাকর চাকরানি দু শ টাকা দিয়ে বিদয় কর ,দেখতে দেখতে সোনার পুত্র এসে হাজির পিতা মাতাকে দেখেই বলে কি চাই এখানে কেন এসেছেন সাহায্য চাইলে ঘেটের বাহির থেকে চাইতে পরেন না ? ইৎসুক হয়েই করম আলি পুত্রকে বল্ল বাবা আমি তোমার জন্ম দাতা পিতা আর ও তোর গর্ভধারিনি মা তুই আমাদের চিনস না বাবা ? পোড়া কপাল আমার বাসায় দেখলাম তোর শশুর শাশুরি পোলাও মাংস খাচ্ছে আর আমরা তোর পিতা মাতা আমাদের চিনস না বলস বাড়ির চাকর চাকরানি থাক বাবা থাক তোরা ভাল থাক সুখে থাক আমাদের নিয়ে চিন্তা করিসনা বাকি জীবন কাাটবেই একভাবে।

এই বিভাগের আরও খবর লেখক থেকে আরও