সাবধান! ধূমপান আসক্তদের করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ত্রিগুণ

মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকী, বিশেষ প্রতিবেদক, গন টেলিভিশন।

আপনি যদি সিগারেট পানে আসক্ত হন তবে সাবধান হন! কারণ এই আসক্তিটি আপনাকে করোনায় আক্রান্ত করতে পারে। আসলে এই জিনিসটি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, ধূমপানের নেশা রয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় করোনার সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়ঃ

গবেষকদের মতে বেশি সিগারেট খাওয়া শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এর ফলে সহজেই শরীরে করোনার সংক্রমণ ঘটে। সমীক্ষায় আরও জানা গেছে যে, ধূমপান শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এর সাথে সাথে নিউমোনিয়া ও হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে ধূমপায়ীগণ সহজেই করোনার সংক্রমণের শিকার হন।

ধূমপান ফুসফুসকে প্রভাবিত করেঃ

প্রধান গবেষক ব্রিজিট গোপ্পার্ট বলেছেন যে, সিগারেটের ধোঁয়া শরীরের ইন্টারফেরন নামক কোষটি কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। আসলে এই কোষটি আমাদের ফুসফুসকে সমস্ত ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে শক্ত ঢালের মতো কাজ করে। তবে অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে এই ঢালটিতে স্থান থেকে অন্য জায়গায় গর্ত তৈরি হয় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ডায়াবেটিস রোগীরা যাঁরা ধূমপান করেন তাঁদের ঝুঁকি বেশি থাকে। আসলে, সিগারেটের আসক্ত রোগীর ডায়াবেটিস পুরো শরীরের রক্তনালীতে দুর্বলতা সৃষ্টি করে। এই কারণে, ফুসফুসের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়।

ই-সিগারেট ধূমপানও বিপজ্জনকঃ

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট ধূমপান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি পাঁচ থেকে শতভাগ বাড়ে। আসলে, এর অভ্যন্তরে উপস্থিত নিকোটিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানগুলি দেহের জন্য প্রচুর ক্ষতি করে। গবেষকরা ই-সিগারেট এবং করোনার মধ্যে সংযোগটি জানতে চার হাজারেরও বেশি লোককে অধ্যয়ন করেছিলেন। ফলস্বরূপ, পাঁচগুণ বেশি বিপদের সন্ধান পান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সিগারেট এবং ই-সিগারেট ধূমপায়ীদের মধ্যে সংক্রমণের হার ছিল সাত শতাংশ।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ বিষয়ে একটি সতর্কতা জারি করেছে। তাঁরা জানিয়েছেন যে, ধূমপান বা ই-সিগারেট গ্রহণ করোনার ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এই বিভাগের আরও খবর লেখক থেকে আরও